নতুন বাবাদের বাচ্চার খেয়াল রাখার থেকেও বেশি জরুরী বাচ্চার মায়ের খেয়াল রাখা: চমক হাসান


অতনু রায়: তিনি এক অদ্ভুত প্রতিভা। সম্প্রতি বাংলায় যে গান গেয়ে ভ্যালেন্টাইন ডে'র প্রস্তাব দেওয়ার রিহার্সাল চলছে সেই "এই মায়াবী চাঁদের রাতে" তাঁর তৈরি। কিন্তু আপনি ইউটিউবে তাঁর নাম লিখলে দেখবেন এক হাসিখুশি মানুষ অঙ্ক শেখাচ্ছেন। না, চমকে যাবেন না। দুজন আসলে একই মানুষ, চমক হাসান। পড়শি দেশ বাংলাদেশের শিল্পী চমক প্রথমবার কাজ করলেন সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবি 'বাবা, বেবি, ও...'তে। প্রেমের সপ্তাহে একান্ত আড্ডায় জানার চেষ্টা 'চমকের ভালবাসা আর ভালবাসার চমককে'।

প্রশ্ন: চমক, গান আর অঙ্ক পাশাপাশি চলার স্বরলিপি লেখা আছে কোনও খাতায়? নাকি হারানো বা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে লেখা হয়নি?

চমক: গান আর অঙ্ক দুটোই আসলে আমার অনেক প্রিয়। ছোটবেলা থেকেই এই দুটোকে আলাদা আলাদা সময়ে, আলাদা আলাদা ভাবে ভালোবেসে বড় হয়েছি। সেই ভালবাসাটাই এখনও বুকের মধ্যে জাগিয়ে রেখেছি। আলাদা করে কোনও স্বরলিপি কোনও খাতায় লেখা হয়নি। হারানো বা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে নয়, কিছুটা আলস্যে বলা যেতে পারে। আর কিছুটা এই কারণেও যে, এই দুয়ের মধ্যে মিল ঘটানোর কোন বিধিবদ্ধ নিয়ম আসলে সেভাবে কোথাও নেই।


প্রশ্ন: ইউটিউব এখন কি একেবারেই মেনস্ট্রিম তবে? ইউটিউব-ই তো মিলিয়ে দিল দুই বাংলার গানকে।

চমক: এ কথা অস্বীকার করার কোনও উপায়ই নেই যে, নিজের সৃষ্টিকে মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য ইউটিউব এখন অনেক বড় একটা মাধ্যম। ইউটিউবকে সেই অর্থে এখন মেইনস্ট্রিম বলা যেতেই পারে। আর এটাও একদিক থেকে সত্যি যে, ইউটিউব-ই মিলিয়ে দিল দুই বাংলার গানকে। ইউটিউব থাকার কারণে বাংলাদেশের মানুষ যেমন অনেক সহজে ভারতের বা পশ্চিমবঙ্গের গান শুনতে পাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষও বাংলাদেশের গান খুব সহজে শুনতে পাচ্ছে। এ দিক থেকে চিন্তা করলে, ইউটিউব দুই বাংলার গানকে সত্যিই মিলিয়ে দিয়েছে।


প্রশ্ন: চমক তো প্রবাসী বাঙালি। প্রবাসে বাংলাচর্চায় ছেদ পড়ে না? পাকাপাকি ভাবে দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই?

চমক: এখন একটা দারুণ ব্যাপার যেটা, ইন্টারনেটের কারণে বাংলাচর্চা বা বাংলার সঙ্গে থাকাটা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমার যে বন্ধুরা সাহিত্যকর্ম কিংবা গানের সঙ্গে যুক্ত আছেন তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকাটা এখন খুব সহজ হয়ে গেছে ইন্টারনেটের কল্যাণে। তবু এটাও ঠিক যে, অনেক কিছুই এখানে আমরা মিস করি। আমি এখন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস শহরের কাছে সান্টা ক্লারিতা নামের একটা ছোট্ট শহরে থাকি। এখানে গান-বাজনার মানুষ কিছু আছেন, কিন্তু একসঙ্গে দলবেঁধে গান করা বা গানের ভিতরে থাকা ব্যাপারটার অনেকটাই অভাব আছে। গান আসলে এমন একটা জিনিস যেটা সবাই মিলে উপভোগ করতে পারলে খুব ভালো হয়। এটা খুব মিস করি। আর পাকাপাকিভাবে দেশে ফেরার ইচ্ছে আছে। সেটা নিয়ে নিজের মধ্যে কিছু পরিকল্পনাও আছে কিন্তু এই মুহূর্তে সেটা নিয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু বলতে চাইছি না।


প্রশ্ন: ছবির সিচুয়েশন নিয়ে আলোচনার সময়ে পরিচালকের কি 'ব্রিফ্' ছিল আপনার জন্য? কি মাথায় রেখেছিলেন 'বাবা হওয়া অত সোজা নয়' বানানোর সময়ে?

চমক: ধন্যবাদ এই প্রশ্নটার জন্য। আসলে কোনও ছবির পরিস্থিতি অনুযায়ী এটাই আমার করা প্রথম গান। পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায় আমাকে ওই সময়টাতে কি কি ঘটনা ঘটবে, বা কি কি দৃশ্য তাঁরা কল্পনা করছেন সেটার একটা তালিকা আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে অরিত্র দা কিছু গানের কথাও বলেছিলেন আমাকে যে কিরকম হতে পারে। কিন্তু এটাও বলেছিলেন যে, তাঁরা কোনও গানকে কপি করতে চাননা। এইটা আমার খুব ভাল লেগেছিল যে, তারা কোনোভাবেই একটা নকল সুর বা নকল গান চাননি। তাঁরা একটা মৌলিক গান চেয়েছিলেন। সেইসঙ্গে একটা ধারণা দিয়েছিলেন যে, একটু মজার এবং অফবিট্ গান হতে হবে। গানটার পরিস্থিতি হচ্ছে যে, একজন নতুন বাবা হয়েছে। আমি শুরুতে ভেবেছিলাম, নতুন বাবা হলে কি কি সমস্যা হয় বা কি ধরনের বিব্রতকর অবস্থায় মানুষকে পড়তে হয় সেই ঝামেলার দিক গুলোকেই আমি গানে তুলে ধরব। কিন্তু যেটা হল, আমি যতবারই লিখতে যাচ্ছি ততবারই আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে আমার বড় মেয়ে বর্ণমালা'র ছবিটা। আমার ছোট মেয়ে পরশমনির বয়স এখন তিনমাস। যখন আমি এই গানটা লিখি, তখন ওর জন্ম হয়নি। আমি যখন বারবার বর্ণমালার কথা ভাবছি দেখলাম যে, সমস্যার পাশাপাশি একটা স্বর্গসুখের ব্যাপারও আছে। যখন আমি ওর চোখের দিকে তাকাই বা ওর কথা ভাবি, সেই সময়ের আনন্দটাও বুকের মধ্যে বারবার খেলা করছে। ফলে আমি বুঝতে পারলাম যে, পুরো ঘটনাটা আসলে একটু জটিল আর একটু কঠিন। এবার সেটাকে চলিত বাংলায় লেখার চেষ্টা করাটা কিন্তু এত সোজা নয়। তখনই মাথায় ভাবনাটা চলে এল। আর প্রথমে ওই লাইনটাই লেখা হয় যে, 'বাবা হওয়া এত সোজা নয়'। তারপরে ব্যাপারটাকে আরও বিস্তৃত করি যে কি কি কারণে আমি বলতে পারি যে বাবা হওয়া সোজা নয়। যে কারণেই আমি লিখছি যে, "দেখেও চাঁদের মুখ, আমার স্বর্গসুখ/সে স্বর্গ মাঝে এমন জ্বালা কেমন করে রয়!"


প্রশ্ন: ছবিটা দেখলেন? ছবিতে 'বাবা' যীশু সেনগুপ্ত। বাবা হিসেবে চমক কেমন? বাচ্চার সব কাজ পারেন নাকি এই ব্যাপারে স্ত্রী বহ্নি'র কাঁধে হেলান?

চমক: ছবিটা এখনও দেখতে পারিনি এটা সত্যি কথা। এখানে আসলে মুক্তি পায়নি এখনও। আমি অপেক্ষা করছি যে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কবে মুক্তি পাবে। ছবিতে বাবা হিসেবে যীশু সেনগুপ্তর যতটা অভিনয় দেখেছি আমার খুব ভালো লেগেছে। বাবা হিসেবে আমি কেমন, সেটার বিচার করা নিজের জন্য খুব কঠিন একটা ব্যাপার। তবে আমার মনে হয় যে, আমি ভালো বাবা হওয়ার চেষ্টা করছি। আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে, প্রথমবার যখন বাবা হয়েছিলাম তখন কিছুই ঠিকঠাক বুঝতাম না। ভেতরে ভেতরে একটা দুর্বলতা ছিল। আমার মনে হয় আমি সেইগুলো আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠছি। হ্যাঁ, আমি সমস্ত কাজ নিজে নিজেই করতে পারি। আমি চেষ্টা করি, আমার সহ-মানুষ বহ্নিকে সেই সমর্থনটুকু দেবার। আমার একটা কথা মনে হয়, সেটা আমি আপনার মাধ্যমে সবাইকে বলতে পারি। আমি বলতে চাই, নতুন বাবাদের জন্য সবথেকে জরুরি কিন্তু বাচ্চার খেয়াল রাখার থেকেও বেশি করে বাচ্চার মায়ের খেয়াল রাখাটা। এই সময়ে বাচ্চার মায়েদের উপর দিয়ে যে ঝড়টা যায় সেটা কিন্তু ভয়ঙ্কর। যদি বাচ্চার মায়ের মানসিক এবং শারীরিক অবস্থার ঠিকভাবে খেয়াল রাখা যায় তাহলে তাঁরাই বাচ্চার সব খেয়াল খুব দ্রুত রাখতে পারে। যদি তাঁরাই ঠিক না থাকেন আর তাঁদের উপরেই সংসারের সমস্ত চাপ থেকে যায়, তখনই পুরো ব্যাপারটাই অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। তাই বাচ্চার মায়ের কথা যদি ঠিকভাবে ভাবা যায়, সময় দেওয়া যায়, তাহলেই ভালো বাবা হওয়া যায়। তাহলে বাচ্চার খেয়ালও রাখা হয়।


প্রশ্ন: বাংলা গানের প্রিয় শিল্পী কারা? গান শোনেন দুই বাংলার?

চমক: বাংলা গানের প্রিয় শিল্পী আসলে অনেকে। অনেকের গানই খুব ভালো লাগে। আলাদা আলাদা করে বলতে গেলে অনেক বড় একটা তালিকা হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে যেমন কিছু মানুষের গান ভালো লাগে তেমনই আগেকার কিছু মানুষের গানও ভাল লাগত। আমি সেই সব গানই এখনও শুনি। সেই পুরোনো দিনের বাংলা গান থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের র‍্যাপ এবং রক্ সবকিছুই আমি গোগ্রাসে গিলে চলি বলা যেতে পারে। সেজন্য প্রিয় শিল্পী আসলে অনেকেই।


প্রশ্ন: কোন অভিনেতার লিপে গান থাকুক, খুব মন থেকে চান?

চমক: এটা বলাটা আমার জন্য খুব শক্ত। এই পুরো ব্যাপারটার সঙ্গেই আমি নতুন করে মানিয়ে নিচ্ছি। আমি
ভেবেছিলাম নিজেদের কিছু ছোট ছোট কাজ ছবির মতো করে আস্তে আস্তে করব। কিন্তু আমি যে ছবির জন্য গান লিখব আর এখনই পুরো ব্যাপারটা ঘটে যাবে, সেটা ভাবিনি। তাই আমার জন্য ব্যাপারটা একটু কঠিনই হয়ে গেছে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আমি অনেকদিন ধরে ছবি দেখারও খুব একটা সময় পাইনা। তাই আমার গানগুলো কার লিপে খুব ভাল লাগতে পারে, সেটা আমি এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি।


প্রশ্ন: কলকাতায় আসবেন কবে? এখানে কিন্তু সাংঘাতিক 'ফ্যান-বেস' তৈরি হয়েছে, যার সিংহভাগ মহিলা। কতটা উপভোগ করেন?

চমক: কলকাতায় যাবার খুব ইচ্ছে আছে। আমি এবং আমার স্ত্রী বহ্নি দুজনে মিলে প্রায়ই এটা আলোচনা করি। এখনও খুব সুন্দর হত যদি আমরা কলকাতায় যেতে পারতাম। কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে আমরা এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে পারছিনা। আমাদের আরেকটা ইচ্ছে আছে যে, ডিসেম্বরের দিকে একবার বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করব। যদি সেই সময় সম্ভব হয় তাহলে হয়ত কলকাতায় ঘুরে আসতে পারি।
আর ফ্যানবেস ব্যাপারটা খুবই উপভোগ করছি। আমার নিজের একটা ফ্যানবেস আগেই ছিল বাংলাদেশে। অনেক মানুষ ছিলেন যারা আমার ভক্ত, আমার অনুসারী। এখন কলকাতাতে নতুন করে একটা ফ্যানবেস তৈরি হয়েছে মূলত "এই মায়াবী চাঁদের রাতে" গানটার জন্য। অবশ্যই এটা দারুণ একটা ব্যাপার যে অনেক মানুষ আপনাকে ভালোবাসে এবং তাদের ভালোবাসা পাঠাচ্ছে। অনেকে আবার আমাদের গানটাকে নিজেদের গলায় রেকর্ড করেও পাঠাচ্ছেন। একটা জিনিস আমার ভালো লেগেছে যে, একেবারে বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাই গানটাকে ভালোবেসেছেন। অনেকে বলেছেন, তাদের বাচ্চা ঘুমানোর সময়ে এই গানটা শুনে ঘুমায়। আমার অনেক বন্ধু বলেছে যে তাদের বাবা-মা গানটা খুব পছন্দ করেছেন। তবে, আমি নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিই যে, যাই করি না কেন আমি আসলে খুব সাধারণ একজন মানুষ। নিজেকে অন্য মানুষের থেকে আলাদা করার চিন্তাটা আমি রাখতে চাইনা। মানুষ ফ্যানবেস থাকলে নিজেকে যে একটা আলাদা উচ্চতার মানুষ হিসেবে মনে করে, আমি সেটা চাই না। আমি চাই, আমার পা মাটিতেই থাকুক। যতটুকু পারি আমি সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই।


প্রশ্ন: কখনও 'গানের কথা মনে নাই' অবস্থা হয়, মানে 'রাইটার্স ব্লক'?

চমক: অবশ্যই। প্রায়ই এরকম হয় যে, আমি লিখতে চাইছি কিন্তু লিখতে পারছিনা। যেমন, এই মুহূর্তে একটা কথা খুব মনে পড়ছে। আমার যে সহ-মানুষ, তাকে আমি কথা দিয়েছিলাম যে একটা চিঠি লিখব। বোধহয় এক বছরের বেশি হয়ে গেছে যে চিঠিটা আমি লেখা শুরু করেছিলাম কিন্তু এখনও আমি সেটা শেষ করতে পারিনি।


প্রশ্ন: বাংলাদেশের ছবির গান আর কলকাতার ছবির গান কতটা আলাদা মনে হয়?

চমক: আমার মনে হয়, যতটুকু আলাদা তার থেকে মিল অনেক বেশি। কারণ আমাদের ভাষা আর ঐতিহ্য একই। একই জায়গা থেকে আমরা হয়তো একটু একটু করে আলাদা হয়েছি। আমাদের ভিতরটা আসলে একই। যে সুরে আর যে কথায় আমরা গান করছি সেগুলোর ভিত্তিও একইরকম। তা সত্ত্বেও, দুটো দেশ যেহেতু দুই ভাবে এগিয়েছে সেটাও ঠিক। বাংলাদেশ যখন ১৯৭১ সালে স্বাধীন হল তারপরে আজম খানের নেতৃত্বে রক গানের একটা চল আসল। ব্যান্ডের গানগুলো আমরা নতুনভাবে শুনতে পেলাম। সেই সময়ে ভারতের যে গান হত বা ব্যান্ডের গান হত, 'মহীনের ঘোড়াগুলি'র গান আর আজম খানের গান কিন্তু দুই রকমের। আজম খানের গান গুলোর ভিতরে একটা 'র' ব্যাপার রয়েছে। "ওরে সালেকা, ওরে মালেকা" ধরণের গান গুলো সরাসরি কোনো রকমের উপমা ছাড়াই সরাসরি আত্মায় গিয়ে আঘাত করছে। সেই জায়গায় 'মহীনের ঘোড়াগুলি'র গানের উপমা, কথার ধার আবার অন্যরকম। দুটো দুই রকমের সুন্দর ছিল।


প্রশ্ন: তারপরের সময়ে?

চমক: আবার যদি নব্বইয়ের দশকের গানগুলোকে ধরি, বাংলাদেশে তখন ব্যান্ডের গান হচ্ছে। তখন 'এলআরবি', 'মাইলস্', এদের একটা নিজস্ব ধারা, কথার স্টাইল ছিল। কলকাতার ব্যান্ডগুলো তখন আবার রক্ ধাঁচের গান করছে না। 'চন্দ্রবিন্দু', 'ভূমি'র গানের একটা আলাদা ধাঁচ আছে। এটা খুব ভালো একটা ব্যাপার। আসলে বৈচিত্র যখন থাকে তখন সকলেই সমৃদ্ধ হয়।


প্রশ্ন: আর ছবির গানে?

চমক: ছবির গানের কথা বললে নিশ্চিত ভাবেই কিছু পার্থক্য আছে। কলকাতার ছবির গানের কবিতা বা উপমার ব্যবহার অন্যরকম সুন্দর। আবার, বাংলাদেশের গানগুলোতে সেগুলো হয়ত ওইভাবে আসেনা কিন্তু তার ভিতরে অন্য রকমের একটা সারল্য আছে যেটা হয়ত প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়।


প্রশ্ন: চমক কি প্রেমিক মানুষ? প্রেমের গান কি স্ত্রীকে ভেবেই তৈরি হয়?

চমক: (হাসি) হ্যাঁ! সম্ভবত আমি বেশ প্রেমিক মানুষ। যদিও নিজেকে এক্ষেত্রে বিচার করা খুব কঠিন একটা ব্যাপার। প্রেমের গান যা লিখি, হ্যাঁ, স্ত্রীকে ভেবেই লিখি। আমাদের নিজেদের একটা সুন্দর প্রেমের গল্প আছে। সেই গল্পটাকে আমি মন থেকে খুব লালন করি। সেই গল্পটাকে নিয়েও আমি গান লিখেছি। আমি যখনই প্রেম নিয়ে চিন্তা করি, আমাদের প্রেমের বিভিন্ন ধাপ আমাকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ধরনের গান লেখার অনুপ্রেরণা দেয়। এইজন্য আমি আমার সহ-মানুষ, আমার স্ত্রী ফিরোজা বহ্নি'র কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বহ্নিই আমার 'মিউজ্'।


ছবি সৌজন্য: শিল্পীর ফেসবুক