Kolkata Book Fair 2022: শুরু হল ৪৫তম কলকাতা বইমেলা, এবার ফোকাস বাংলাদেশ


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী কে এম খালিদ-এর উপস্থিতিতে উদ্বোধন হল ৪৫তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২২ এর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তী সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন৷ প্রথানুযায়ী ৪৫ বার কাঠের হাতুড়ি দিয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারের বইমেলার 'ফোকাল থিম কান্ট্রি' বাংলাদেশবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মশতবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষের পাশাপাশি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছরও উদযাপন করা হবে এবারের বইমেলার মাধ্যমে।

উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করতে পারি না। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি অভিন্ন। কাঁটাতার দিয়ে দুই দেশের আত্মিক যোগ মুছে দেওয়া যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য যেমন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, বাংলাদেশের ঐতিহ্যেরও অনেকটাই পশ্চিমবঙ্গে রয়ে গেছে। আমাদের এই সৌহার্দ্য চিরকাল অটুট থাকবে”। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মমতার ১২টি বইও প্রকাশিত হয়েছে। 

সম্প্রতি চলতে থাকা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও নাম না নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা কোনো দেশের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করছি না। তবে, আমরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং শান্তির পক্ষে"। আন্তর্জাতিক বইমেলার কোনও স্টলের সামনে কাউকে কোনও বিক্ষোভ দেখাতেও বারণ করেন তিনি।


কে. এম. খালিদ বলেন, "কলকাতা বইমেলার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের দুই দেশেরই ঐতিহ্য রয়েছে এবং আমাদের সমাজও সাহিত্যকেন্দ্রিক। আর ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণ আমরা ভুলতে পারি না"।

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, যিনি এবারের কলকাতা বইমেলা কমিটি কর্তৃক CESC সৃষ্টি সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন, বলেন, "পুরস্কার আমাকে যেন একটা চাবুক মেরে জিজ্ঞাসা করে আমি এর যোগ্য কিনা। সবথেকে আনন্দের হল যে দুই বাংলা হাতে হাত ধরে একটা উৎসবের আয়োজন করেছে যাকে আমরা এবার বইমেলা বলছি"। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানবিকতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কিংবদন্তী সাহিত্যিক বলেন, "যদি কেউ কখনও সারা পৃথিবীর শাসিকাদের নিয়ে কোনও গবেষণামূলক বই লিখতে চান, তবে তাকে এই মহিলার সামনে এসে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে দয়া করে বলবেন আপনার সাফল্যের রহস্যটা কি!"

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক, ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় এই 'নিউ নর্ম্যাল' পরিস্থিতিতে মেলা সুষ্ঠুভাবে করার উপদেশ ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে  কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন যাতে আগামী বছরগুলোতেও করুণাময়ী সেন্ট্রাল পার্কেই মেলার আয়োজন করার অনুমতি দেওয়া যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র প্রস্তাবে সম্মতই হননি, তৎক্ষণাৎ সেন্ট্রাল পার্ক মেলা প্রাঙ্গনের নাম 'বইমেলা প্রাঙ্গন' করার কথাও বলেন। প্রসঙ্গত, পরবর্তীতে বইমেলাকে নতুনভাবে সংস্কার করা মিলন মেলা কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত করার কথা চলছিল।

৪৫তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা চলবে ১৩ মার্চ পর্যন্ত এবং প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলা চলাকালীন ৩ মার্চ এবং ৪ মার্চ বাংলাদেশ দিবস পালন করা হবে। ৬ মার্চ শিশু দিবস হিসেবে পালিত হবে। 'কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল' (KLF) ২০২২ হবে ১১-১২ মার্চ